চীন ও জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ছুটির মৌসুমের ভ্রমণ ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। চলতি ও আগামী সপ্তাহে জাপানের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসহ মোট ৪৬টি রুটে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া সব ফ্লাইটই চীনা এয়ারলাইনস পরিচালিত।
শেনঝেনভিত্তিক হুয়ো লি তিয়ান হুই টেকনোলজি নির্মিত অ্যাপ ফ্লাইট ম্যানেজারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ও আগামী সপ্তাহে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ৪৬টি রুটে কোনো ফ্লাইট চলবে না। এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রভাবিত হবে চীন ও জাপানের মোট ৩৮টি বিমানবন্দর।
ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমার মধ্যে চীনা নববর্ষের সরকারি ছুটির (১-৩ জানুয়ারি) সময়ও মিলে গেছে।
নিজস্ব উদ্যোগে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ৪৬টি রুটে বাতিল হওয়া সব ফ্লাইটই চীনা এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানের। এ তালিকার মধ্যে রয়েছে এয়ার চায়না এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন, হাইনান, শিয়ামেন ও সিচুয়ান এয়ারলাইনসসহ দেশটির আকাশ চলাচল খাতের বেশির ভাগ বড় কোম্পানি।
জাপানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওসাকা ও নাগোয়া। ৪৬টি রুটের প্রায় অর্ধেকই শেনইয়াং, চংকিং ও উহানের মতো চীনের বিভিন্ন শহর থেকে জাপানের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
সাংহাই থেকে জাপানের নাগাসাকি, নিইগাতা ও কাগোশিমার মতো ছোট শহরমুখী সরাসরি ফ্লাইটও আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে। তবে বেইজিং ও সাংহাই থেকে টোকিও ও ওসাকার মতো দুই দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যকার আকাশপথে চলাচলে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটবে।
গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান প্রণালিতে সংঘাত হলে জাপান সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মন্তব্য করার পর বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এরপর গত ১৪ নভেম্বর বেইজিং ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে চীনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়। চলতি মাসে উত্তর-পূর্ব জাপান ও হোক্কাইডোয় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও বেইজিং নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়।